অতিথির স্মৃতি গল্পের পূর্ণাঙ্গ নোট, সারসংক্ষেপ ও প্রশ্নোত্তর | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়| বাংলা 8

অতিথির স্মৃতি

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

অতিথির স্মৃতি: সারসংক্ষেপ

‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর দেওঘরে বায়ু পরিবর্তনের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি এক অসুস্থ কুকুরছানার সঙ্গে পরিচিত হন। প্রথমে কুকুরটি দুর্বল ও অসহায় ছিল, কিন্তু লেখকের যত্নে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। এই কুকুরটি লেখকের নিঃসঙ্গ জীবনে একান্ত সঙ্গী হয়ে ওঠে। লেখক তার প্রতি গভীর মমত্ববোধ অনুভব করেন এবং কুকুরটির উপস্থিতি তাকে আনন্দ দেয়।

কিন্তু একদিন হঠাৎ কুকুরটি আর আসে না। লেখক ব্যথিত হয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন যে মালির বৌ ও ছেলে কুকুরটিকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় লেখক গভীরভাবে আহত হন। গল্পটি মানুষের নিষ্ঠুরতা ও প্রাণীজগতের প্রতি উদাসীনতা তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি লেখকের নিঃসঙ্গতা, জীবপ্রেম এবং সহানুভূতির গুরুত্বকে প্রকাশ করে।

গল্পটি আমাদের শেখায় যে মানুষ শুধু নিজের স্বার্থে নয়, জীবজগতের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করাই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়।

অতিথির স্মৃতি

অতিথির স্মৃতি গল্পের মূল বিষয়বস্তু:

  • নিঃসঙ্গতা বন্ধুত্ব: বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে গিয়ে লেখক একাকীত্ব অনুভব করছিলেন। সেই সময় একটি ক্ষয়রোগে আক্রান্ত কুকুরছানা তার সঙ্গী হয়, যার নাম সে দেয় ‘অতিথি’।
  • প্রাণীর প্রতি আকর্ষণ: লেখক কুকুরটির প্রতি খুব আকৃষ্ট হন। তাদের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যেখানে কুকুরটি লেখকের নিঃসঙ্গতা দূর করত।
  • মানুষের নিষ্ঠুরতা: একদিন লেখক লক্ষ্য করেন যে অতিথি আসছে না। পরে জানতে পারেন, বাড়ির কাজের লোক (মালি) এবং তার স্ত্রী কুকুরটিকে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ অতিথি তাদের খাবার নষ্ট করত।
  • ব্যর্থ ভালোবাসা বেদনা: লেখক অতিথিকে খুঁজে না পেয়ে ও তার অবস্থার কথা জেনে অত্যন্ত কষ্ট পান। তার মনে হয়, ভালোবাসার প্রতিদান যেন সবসময় নিষ্ঠুরতা হয়। এটি প্রাণীজগতের প্রতি মানুষের অবহেলা ও নিষ্ঠুরতা প্রকাশ করে। 

মূল বার্তা:
গল্পটি পাঠককে প্রাণীজগতের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে এবং তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা পরিহার করতে শেখায়। এটি ভালোবাসা, নিঃসঙ্গতা, ও জীবপ্রেমের এক মর্মস্পর্শী আখ্যান।

গল্পের মূল ভাব:

‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের মূল ভাব হলো মানুষের জীবনে সহানুভূতি, মমত্ববোধ এবং জীবজগতের প্রতি ভালোবাসার গুরুত্ব। লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একটি অসুস্থ কুকুরছানার সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে দেখিয়েছেন, কীভাবে একটি প্রাণী মানুষের নিঃসঙ্গ জীবনে আনন্দ ও সঙ্গ দিতে পারে। কিন্তু সমাজে অনেক সময় প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা ও উদাসীনতা দেখা যায়, যা লেখককে ব্যথিত করে। গল্পটি আমাদের শেখায় যে প্রকৃত মানবিকতা হলো সকল জীবের প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা।

গল্পের শিক্ষা:

‘অতিথির স্মৃতি’ গল্প থেকে আমরা শিখি যে সহানুভূতি, মমত্ববোধ এবং জীবজগতের প্রতি ভালোবাসা মানবিকতার অন্যতম প্রধান গুণ। লেখক দেখিয়েছেন, একটি অসুস্থ কুকুরছানার প্রতি যত্ন ও স্নেহ কেবল প্রাণীকে নয়, মানুষকেও আনন্দ ও মানসিক শান্তি দিতে পারে। কিন্তু সমাজে অনেক সময় প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখা যায়, যা মানবতার পরিপন্থী।

গল্পটি আমাদের শেখায়:

প্রাণীও জীবনের অংশ—তাদের প্রতি ভালোবাসা ও যত্ন প্রদর্শন করা উচিত।

নিষ্ঠুরতা নয়, সহানুভূতি মানবিকতার পরিচয়।

নিঃসঙ্গতা দূর করতে ভালোবাসা ও সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম।

চরিত্র বিশ্লেষণ:

গল্পে প্রধান চরিত্র দুটি—লেখক এবং কুকুরছানা

১. লেখক

  • লেখক একজন সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল মানুষ। তিনি দেওঘরে বায়ু পরিবর্তনের সময় নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছিলেন।
  • কুকুরছানার প্রতি তার মমত্ববোধ ও যত্নশীলতা তার মানবিকতার পরিচয় দেয়।
  • লেখক প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতির গুরুত্ব বোঝেন এবং কুকুরটির অনুপস্থিতিতে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হন।
  • তার চরিত্রে নিঃসঙ্গতা, মমত্ববোধ, এবং জীবপ্রেম স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

২. কুকুরছানা

  • কুকুরছানা গল্পে নির্মলতা নির্ভরতার প্রতীক
  • প্রথমে অসুস্থ ও দুর্বল হলেও লেখকের যত্নে সে সুস্থ হয়ে ওঠে।
  • লেখকের নিঃসঙ্গ জীবনে সে আনন্দ ও সঙ্গ দেয়।
  • তার চরিত্রে বিশ্বাস, নির্ভরতা, এবং নির্মলতা প্রকাশ পেয়েছে।

৩. মালির বৌ ছেলে

  • এরা গল্পে নিষ্ঠুরতা উদাসীনতার প্রতীক
  • তারা কুকুরটিকে তাড়িয়ে দিয়ে লেখককে মানসিকভাবে আঘাত করে।
  • তাদের চরিত্রে স্বার্থপরতাসহানুভূতির অভাব স্পষ্ট।

গল্পের শৈলী ভাষার বৈশিষ্ট্য:

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে শৈলী ও ভাষার কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—

১. শৈলী

  • সরলতা স্বাভাবিকতা: গল্পের বর্ণনা অত্যন্ত সহজ ও স্বাভাবিক। লেখক জটিল শব্দ বা অলংকার ব্যবহার না করে সাধারণ ভাষায় আবেগ প্রকাশ করেছেন।
  • আত্মকথনধর্মী শৈলী: গল্পটি লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে লেখা, তাই এতে আত্মকথনের স্বাদ রয়েছে।
  • সংবেদনশীলতা: লেখক কুকুরছানার প্রতি নিজের মমত্ববোধ ও নিঃসঙ্গতার অনুভূতি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
  • বাস্তবধর্মিতা: গল্পে কোনো অতিরঞ্জন নেই; ঘটনাগুলো বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

২. ভাষার বৈশিষ্ট্য

  • সহজ প্রাঞ্জল ভাষা: গল্পে ব্যবহৃত ভাষা সহজবোধ্য, যা পাঠকের মনে সরাসরি আবেগ জাগায়।
  • আবেগময়তা: লেখকের ভাষায় মমত্ববোধ, সহানুভূতি ও ব্যথার প্রকাশ স্পষ্ট।
  • বর্ণনামূলক ধারা: কুকুরছানার অবস্থা, লেখকের অনুভূতি এবং পরিবেশের বর্ণনা অত্যন্ত জীবন্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
  • সংলাপের স্বল্পতা: গল্পে সংলাপের ব্যবহার খুব কম; মূলত বর্ণনা ও অনুভূতির প্রকাশই প্রধান।

সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

১. ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখক কে?

উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
বিস্তারিত: তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী, যিনি মানবিকতা, সহানুভূতি ও সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।

২. গল্পে লেখক কোথায় বায়ু পরিবর্তনের জন্য গিয়েছিলেন?

উত্তর: দেওঘর।
বিস্তারিত: দেওঘর একটি শান্ত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান, যেখানে লেখক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য গিয়েছিলেন।

৩. গল্পে লেখকের সঙ্গী কে ছিল?

উত্তর: একটি অসুস্থ কুকুরছানা।
বিস্তারিত: এই কুকুরছানাটি লেখকের নিঃসঙ্গ জীবনে আনন্দ ও সঙ্গ দিয়েছিল।

৪. কুকুরছানাটি প্রথমে কেমন ছিল?

উত্তর: অসুস্থ ও দুর্বল।
বিস্তারিত: লেখক তার প্রতি যত্ন নিয়ে তাকে সুস্থ করেছিলেন।

৫. লেখক কুকুরছানার প্রতি কী করেছিলেন?

উত্তর: যত্ন ও স্নেহ দেখিয়েছিলেন।
বিস্তারিত: লেখক তাকে খাবার দিয়েছেন, যত্ন করেছেন এবং তার প্রতি গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ করেছেন।

৬. কুকুরছানার উপস্থিতি লেখকের জীবনে কী এনেছিল?

উত্তর: আনন্দ ও সঙ্গ।
বিস্তারিত: লেখকের নিঃসঙ্গতা দূর হয়েছিল এবং তিনি মানসিক শান্তি পেয়েছিলেন।

৭. একদিন কুকুরটি হঠাৎ কী করল?

উত্তর: আর লেখকের কাছে আসেনি।
বিস্তারিত: এই অনুপস্থিতি লেখকের মনে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছিল।

৮. লেখক কুকুরটির অনুপস্থিতিতে কী অনুভব করেছিলেন?

উত্তর: গভীর ব্যথা ও শূন্যতা।
বিস্তারিত: তিনি কুকুরটির জন্য খোঁজ নিতে শুরু করেন।

৯. কুকুরটিকে কে তাড়িয়ে দিয়েছিল?

উত্তর: মালির বৌ ও ছেলে।
বিস্তারিত: তারা কুকুরটিকে অযথা তাড়িয়ে দিয়ে নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছিল।

১০. গল্পে মালির বৌ ছেলের চরিত্র কী প্রকাশ করে?

উত্তর: নিষ্ঠুরতা ও সহানুভূতির অভাব।
বিস্তারিত: তারা প্রাণীর প্রতি উদাসীন ও স্বার্থপর।

১১. গল্পের মূল ভাব কী?

উত্তর: জীবজগতের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতির গুরুত্ব।
বিস্তারিত: মানবিকতার প্রকৃত পরিচয় হলো সকল জীবের প্রতি মমত্ববোধ।

১২. গল্পটি আমাদের কী শিক্ষা দেয়?

উত্তর: প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও যত্ন প্রদর্শন করা উচিত।
বিস্তারিত: নিষ্ঠুরতা নয়, সহানুভূতিই মানবিকতার পরিচয়।

১৩. গল্পে লেখকের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: সংবেদনশীলতা ও মমত্ববোধ।
বিস্তারিত: তিনি প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা দেখিয়েছেন এবং তার অনুপস্থিতিতে ব্যথিত হয়েছেন।

১৪. কুকুরছানার প্রতীকী অর্থ কী?

উত্তর: নির্মলতা ও নির্ভরতা।
বিস্তারিত: কুকুরছানা লেখকের নিঃসঙ্গ জীবনে আনন্দের প্রতীক।

১৫. গল্পে কোন সামাজিক দিকটি ফুটে উঠেছে?

উত্তর: প্রাণীর প্রতি মানুষের উদাসীনতা ও নিষ্ঠুরতা।
বিস্তারিত: সমাজে অনেকেই প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল নয়।

১৬. গল্পে লেখক কেন নিঃসঙ্গ ছিলেন?

উত্তর: তিনি বায়ু পরিবর্তনের জন্য একা দেওঘরে ছিলেন।
বিস্তারিত: পরিবার থেকে দূরে থাকার কারণে তিনি একাকী ছিলেন।

১৭. গল্পে লেখক কুকুরছানার প্রতি কী ধরনের আবেগ প্রকাশ করেছেন?

উত্তর: মমত্ববোধ ও ভালোবাসা।
বিস্তারিত: তিনি প্রাণীকে নিজের সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

১৮. গল্পে কুকুরছানার অনুপস্থিতি লেখকের মনে কী প্রভাব ফেলেছিল?

উত্তর: গভীর দুঃখ ও শূন্যতা।
বিস্তারিত: তিনি কুকুরটির জন্য খোঁজ নিতে শুরু করেন।

১৯. গল্পে কোন মানবিক গুণের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: সহানুভূতি ও জীবপ্রেম।
বিস্তারিত: মানবিকতার মূল হলো ভালোবাসা।

২০. গল্পে লেখক কুকুরছানার জন্য কী করেছিলেন?

উত্তর: যত্ন নিয়ে সুস্থ করেছিলেন।
বিস্তারিত: তিনি তাকে খাবার দিয়েছেন ও স্নেহ করেছেন।

২১. গল্পে মালির বৌ ছেলের আচরণ কী নির্দেশ করে?

উত্তর: স্বার্থপরতা ও নিষ্ঠুরতা।
বিস্তারিত: তারা প্রাণীর প্রতি উদাসীন।

২২. গল্পে লেখক কুকুরছানার অনুপস্থিতির কারণ কীভাবে জানলেন?

উত্তর: খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন মালির বৌ ও ছেলে তাড়িয়ে দিয়েছে।
বিস্তারিত: এই ঘটনা লেখককে ব্যথিত করেছিল।

২৩. গল্পে লেখকের নিঃসঙ্গতা দূর করতে কী সাহায্য করেছিল?

উত্তর: কুকুরছানার সঙ্গ
বিস্তারিত: সে লেখকের জীবনে আনন্দ এনেছিল।

২৪. গল্পে লেখক কুকুরছানার প্রতি কী ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন?

উত্তর: বন্ধুত্ব ও মমত্বপূর্ণ সম্পর্ক।
বিস্তারিত: তিনি প্রাণীকে নিজের সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

২৫. গল্পটি কোন ধরনের রচনা?

উত্তর: আত্মকথনধর্মী গল্প।
বিস্তারিত: লেখক নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।

সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর- ১:

দরিদ্র বর্গাচাষি গফুরের অতি আদরের একমাত্র ষাঁড় মহেশ। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে ওকে ঠিকমত খড়-বিচুলি খেতে দিতে পারে না। জমিদারের কাছে সামান্য খড় ধার চেয়েও পায় না। নিজে না খেয়ে থাকলেও গফুরের দুঃখ নেই। কিন্তু মহেশকে খাবার দিতে না পেরে তার বুক ফেটে যায়। সে মহেশের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে- মহেশ, তুই আমার ছেলে। তুই আমাদের আট সন প্রতিপালন করে বুড়ো হয়েছিস। তোকে আমি পেট পুরে খেতে দিতে পারি নে, কিন্তু তুই তো জানিস আমি তোকে কত ভালোবাসি। মহেশ প্রত্যুত্তরে গলা বাড়িয়ে আরামে চোখ বুজে থাকে।

ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ কী?

খ. অতিথি কিছুতে ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন-‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ কী?

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর স্বাস্থ্য পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে গিয়েছিলেন।

খ. অতিথি কিছুতে ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না কেন? ব্যাখ্যা করো।

বাড়ির ভেতরে মালিনী নামক কাজের মেয়েটি বকাঝকা করছিল বলে অতিথি (কুকুরটি) কিছুতে ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না।

‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে দেখা যায়, লেখক দেওঘরে বেড়াতে গিয়ে একটি কুকুরের সাথে সখ্য গড়ে তোলেন। কুকুরটি প্রতিদিন লেখকের সাথে বেড়াতে যেত এবং একসময় লেখকের ঘরের সামনে এসে দাঁড়াত। কিন্তু মালিনী নামক কাজের মেয়েটি কুকুরটিকে তাড়িয়ে দিত এবং বকাঝকা করত। এই কারণে কুকুরটি ঘরের ভেতরে ঢুকতে সাহস পেত না। এটি মূলত মালিনীর নিষ্ঠুর আচরণ এবং লেখকের প্রতি তার আনুগত্যের প্রকাশ।

গ. উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে লেখক একটি অসুস্থ কুকুরকে সেবাযত্ন করে সুস্থ করে তোলেন এবং তার প্রতি গভীর মমত্ববোধ অনুভব করেন। অন্যদিকে, উদ্দীপকে দরিদ্র গফুর তার প্রিয় ষাঁড় মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে না পারলেও তাকে নিজের ছেলের মতো ভালোবাসে। এই দুটি ঘটনায় মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে গড়ে ওঠা গভীর সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং মমতার দিকটি ফুটে উঠেছে। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষ তার পোষা প্রাণীকে পরিবারের সদস্য মনে করে এবং তাদের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসা প্রকাশ করে।

ঘ. উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন-‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

চেতনাগত মিল ও ভিন্ন প্রেক্ষাপট

১. চেতনাগত মিল: গফুর ও লেখক উভয়ের মধ্যেই প্রাণীর প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও ভালোবাসা বিদ্যমান। গফুর মহেশকে সন্তানের মতো ভালোবাসে, আর লেখক অসুস্থ অতিথি (কুকুর) কে সুস্থ করে তোলেন। উভয়ের অনুভূতিই এক ও অভিন্ন।

২. ভিন্ন প্রেক্ষাপট: গফুর একজন দরিদ্র বর্গাচাষি এবং মহেশকে খাবার দেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা তার নেই। এই দারিদ্র্য তার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশকে কষ্টসাধ্য করে তোলে। অন্যদিকে, লেখক একজন সচ্ছল ব্যক্তি, যিনি দেওঘরে বেড়াতে গিয়েছেন। তিনি সহজেই কুকুরটির খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন।

৩. মূল পার্থক্য: গফুরের ভালোবাসা দারিদ্র্যের কষ্টিপাথরে পরীক্ষিত, যেখানে তার নিজের না খেয়ে থাকলেও মহেশের দুঃখ তাকে কাঁদায়। লেখকের ভালোবাসা সচ্ছলতার মধ্যে প্রকাশ পায়।

৪. যথার্থতা: মন্তব্যটি যথার্থ, কারণ উভয়ের মানসিকতা এক হলেও, গফুরের প্রেক্ষাপটটি করুণ ও বাস্তবসম্মত, যা ভালোবাসার গভীরতাকে আরও বেশি ফুটিয়ে তোলে।

তাই আমরা বলতে পারি মন্তব্যটি যথার্থ।

সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর- ২:

লালমনিরহাটের যুবায়ের প্রায় ১০ বছর ধরে তার পোষাহাতি কালাপাহাড়কে দিয়ে লাকড়ি টানা, চাষ করা, সার্কাস দেখানো ইত্যাদি কাজ করিয়ে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে দারিদ্র্যের কারণে হাতির খোরাক জোগাড় করতে না পেরে একদিন সে কালাপাহাড়কে বিক্রি করে দিল। ক্রেতা কালাপাহাড়কে নিতে এসে ওর পায়ে বাঁধা রশি ধরে হাজার টানাটানি করে একচুলও নাড়াতে পারল না। কালাপাহাড়ের দুচোখ বেয়ে শুধু টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। পরদিন খদ্দের আরও বেশি লোকজন নিয়ে আসে কালাপাহাড়কে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ভোরবেলা যুবায়ের দেখে- কালাপাহাড় মরে পড়ে আছে। হাউমাউ করে সে চিৎকার করে আর বলে- ‘ওরে আমার কালাপাহাড়, অভিমান করে তুই চলে গেলি!’

ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন পদক লাভ করেন?

খ. লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ. কালাপাহাড়ের আচরণ এবং ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের অতিথির আচরণ কীভাবে ভিন্ন- বর্ণনা করো।

ঘ. “উদ্দীপকের যুবায়েরের অনুভূতি আর ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের অনুভূতি একই ধারায়

উৎসারিত”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন পদক লাভ করেন?

Answer: জগত্তারিণী স্বর্ণপদক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক লাভ করেন. 

খ. লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

Answer: কুকুরটির প্রতি মমতার কারণে
‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন, কারণ একটি অতিথি কুকুরের প্রতি তার গভীর মমতা তৈরি হয়েছিল। তিনি কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে চাইছিলেন না।

গ. কালাপাহাড়ের আচরণ এবং ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের অতিথির আচরণ কীভাবে ভিন্ন- বর্ণনা করো।

কালাপাহাড়ের আচরণ এবং ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের অতিথির আচরণ কীভাবে ভিন্ন ছিল।
উদ্দীপকের কালাপাহাড় ছিল পোষা হাতি, যা মালিকের প্রতি অভিমান করে মারা যায়। অন্যদিকে, ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের অতিথি ছিল একটি ভবঘুরে কুকুর, যা লেখকের প্রতি আকৃষ্ট হলেও শেষ পর্যন্ত নিজের স্বাধীন জীবন বেছে নেয় এবং লেখকের সাথে যায়নি। কালাপাহাড়ের আচরণ ছিল পোষা প্রাণীর মতো গভীর বন্ধন ও অভিমানের প্রকাশ, আর অতিথির আচরণ ছিল ক্ষণিকের মায়া ও ভবঘুরে জীবনের টান।

ঘ. “উদ্দীপকের যুবায়েরের অনুভূতি আর ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের অনুভূতি একই ধারায় উৎসারিত”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

“উদ্দীপকের যুবায়েরের অনুভূতি আর ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের অনুভূতি একই ধারায় উৎসারিত”- মন্তব্যটির যথার্থতা।

উদ্দীপকের যুবায়েরের হাতি হারানোর বেদনা এবং ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের কুকুর হারানোর অনুভূতি একই রকম। উভয়ের অনুভূতিই প্রাণীর প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা, মমতা এবং বিচ্ছেদের যন্ত্রণার প্রকাশ। এই অনুভূতিতে কোনো কৃত্রিমতা নেই, আছে কেবল নিখাদ ভালোবাসা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top