বই পড়া: সারাংশ, মূল থিম ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর- এসএসসি পরীক্ষা 2026-2027

বই পড়া

প্রমথ চৌধুরী

বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও আমি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতে চাইনে। প্রথম, সে পরামর্শ কেউ গ্রাহ্য করবেন না; কেননা, আমরা জাত হিসেবে শৌখিন নই। দ্বিতীয়ত, অনেকে তা কুপরামর্শ মনে করবেন; কেননা, আমাদের এখন ঠিক শখ করবার সময় নয়।আমাদের এই রোগ-শোক, দুঃখ-দারিদ্র্যের দেশে সুন্দর জীবন ধারণ করাই যখন হয়েছে প্রধান সমস্যা, তখন সেই জীবনকেই সুন্দর করা, মহৎ করার প্রস্তাব অনেকের কাছে নিরর্থক এবং নির্মমও ঠেকবে।আমরা সাহিত্যের রস উপভোগ করতে প্রস্তুত নই; কিন্তু শিক্ষার ফল লাভের জন্য আমরা সকলে উদ্বাহু।আমাদের বিশ্বাস শিক্ষা আমাদের গায়ের জ্বালা  ও চোখের জল দুই-ই দূর করবে। এ আশা সম্ভবত দুরাশা; কিন্তু তা হলেও আমরা তা ত্যাগ করতে পারি নে। কেননা, আমাদের উদ্ধারের জন্য কোনো সদুপায় আমরা চোখের সুমুখে দেখতে পাইনে।শিক্ষার মাহাত্ম্যে আমিও বিশ্বাস করি এবং যিনিই যাই বলুন সাহিত্যচর্চা যে শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। লোকে যে তা সন্দেহ করে, তার কারণ এ শিক্ষার ফল হাতে হাতে পাওয়া যায় না, অর্থাৎ তার কোনো নগদ বাজার দর নেই। এই কারণে ডেমোক্রেসি সাহিত্যের সার্থকতা বোঝে না, বোঝে শুধু অর্থের সার্থকতা।ডেমোক্রেসির গুরুরা চেয়েছিলেন সকলকে সমান করতে কিন্তু তাদের শিষ্যরা তাদের কথা উল্টো বুঝে সকলেই হতে চায় বড় মানুষ। একটি বিশিষ্ট অভিজাত সভ্যতার উত্তরাধিকারী হয়েও ইংরেজি সভ্যতার সংস্পর্শে এসে আমরা ডেমোক্রেসির গুণগুলো আয়ত্ত করতে না পেরে তার দোষগুলো আত্মসাৎ করেছি। এর কারণও স্পষ্ট। ব্যাধিই সংক্রামক স্বাস্থ্য নয়।আমাদের শিক্ষিত সমাজের লোলুপদৃষ্টি আজ অর্থের ওপরই পড়ে রয়েছে। সুতরাং সাহিত্যচর্চার সুফল সম্বন্ধে অনেকেই সন্দিহান। যাঁরা হাজারখানা ল-রিপোর্ট কেনেন, তারা একখানা কাব্রগ্রন্থও কিনতে প্রস্তুত নন, কেননা, তাতে ব্যবসার কোনো সুসার নেই।নজির না আউড়ে কবিতা আবৃত্তি করলে মামলা যে হারতে হবে সে তো জানা কথা, কিন্তু যে কথা জজে শোনে না, তার যে কোনো মূল্য নেই, এইটেই হচ্ছে পেশাদারদের  মহাভ্রান্তি। জ্ঞানের ভান্ডার যে ধনের ভান্ডার নয় এ সত্য তো প্রত্যক্ষ। কিন্তু সমান প্রত্যক্ষ না হলেও সমান সত্য যে, এ যুগে যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী। তারপর যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়;কেননা ধনের সৃষ্টি যেমন জ্ঞান সাপেক্ষ তেমনি জ্ঞানের সৃষ্টি মন সাপেক্ষ এবং মানুষের মনকে সরল, সচল,সরাগ ও সমৃদ্ধ করার ভার আজকের দিনে সাহিত্যের ওপরও ন্যস্ত হয়েছে।কেননা,মানুষের দর্শন, বিজ্ঞান,ধর্মনীতি, অনুরাগ-বিরাগ, আশা-নৈরাশ্য, তার অন্তরের সত্য ও স্বপ্ন এই সকলের সমবায়ে সাহিত্যের জন্ম।অপরাপর শাস্ত্রের ভিতর যা আছে সেসব হচ্ছে মানুষের মনের ভগ্নাংশ; তার পুরো মনটার সাক্ষাৎ পাওয়া যায় শুধু সাহিত্যে। দর্শন বিজ্ঞান ইত্যাদি হচ্ছে তার মনগঙ্গার তোলা জল, তার পূর্ণ স্রোত আবহমানকাল সাহিত্যের ভেতরই সোল্লাসে সবেগে বয়ে চলেছে এবং সেই গঙ্গাতে অবগাহন করেই আমরা আমাদের সকল পাপমুক্ত হব।

বই পড়া
বই পড়া

অতএব,দাঁড়াল এই যে,আমাদের বই পড়তে হবে,কেননা বই পড়া ছাড়া সাহিত্যচর্চার উপায়ান্তর নেই।ধর্মের চর্চা চাই কি মন্দিরের বাইরেও করা চলে, দর্শনের চর্চা গুহায়,নীতির চর্চা ঘরে এবং বিজ্ঞানের চর্চা জাদুঘর; কিন্তু সাহিত্যের চর্চার জন্য চাই লাইব্রেরি;ও-চর্চা মানুষে কারখানাতেও করতে পারে না; চিড়িয়াখানাতেও নয়। এইসব কথা যদি সত্য হয়,তাহলে আমাদের মানতেই হবে যে,সাহিত্যের মধ্যে আমাদের জাত মানুষ হবে। সেইজন্য আমরা যত বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করব,দেশের তত বেশি উপকার হবে।

আমাদের মনে হয় এ দেশে লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় এবং স্কুল-কলেজের চাইতে একটু বেশি।একথা শুনে অনেকে চমকে উঠবেন।কেউ কেউ আবার হেসেও উঠবেন; কিন্তু আমি জানি, আমি রসিকতাও করছিনে, অদ্ভুত কথাও বলছিনে; যদিও এ বিষয়ে লোকমত যে আমার মতের সমরেখায় চলে না, সে বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ সচেতন। অতএব আমার কথার আমি কৈফিয়ত দিতে বাধ্য।আমার বক্তব্য আমি আপনাদের কাছে নিবেদন করছি তার সত্য মিথ্যার বিচার আপনারা করবেন।সে বিচারে আমার কথা যদি না টেকে তাহলে রসিকতা হিসেবেই গ্রাহ্য করবেন।

আমার বিশ্বাস শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না।সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।আজকের বাজারে বিদ্যাদাতার অভাব নেই। এমন কি,এ ক্ষেত্রে দাতাকর্ণেরও অভাব নেই; এবং আমরা আমাদের ছেলেদের তাদের দ্বারস্থ করেই নিশ্চিত থাকি এই বিশ্বাসে যে, সেখানে থেকে তারা এতটা বিদ্যার ধন লাভ করে ফিরে আসবে যার সুদে তার বাকি জীবন আরামে কাটিয়ে দিতে পারবে।কিন্তু এ বিশ্বাস নিতান্ত অমূলক। মনোরাজ্যের দান গ্রহণসাপেক্ষ, অথচ আমরা দাতার মুখ চেয়ে গ্রহীতার কথাটা একেবারেই ভুলে যাই।এ সত্য ভুলে না গেলে আমরা বুঝতাম যে, শিক্ষকের সার্থকতা শিক্ষাদান করায় নয়, কিন্তু ছাত্রকে তা অর্জন করতে সক্ষম করায়। শিক্ষক ছাত্রকে শিক্ষার পথ দেখিয়ে দিতে পারেন, তার কৌতূহল উদ্রেক করতে পারেন,তার বুদ্ধিবৃত্তিকে জাগ্রত করতে পারেন, মনোরাজ্যের ঐশ্বর্যের সন্ধান দিতে পারেন, তার জ্ঞান পিপাসাকে জ্বলন্ত করতে পারেন, এর বেশি আর কিছু পারেন না।যিনি যথার্থ গুরু তিনি শিষ্যের আত্মাকে উদ্বোধিত করেন এবং তার অন্তর্নিহিত সকল প্রচ্ছন্ন শক্তিকে ব্যক্ত করে তোলেন।সেই শক্তির বলে শিষ্য নিজের মন নিজে গড়ে তোলে,নিজের অভিমত বিদ্যা নিজে অর্জন করে বিদ্যার সাধনা শিষ্যকে নিজে অর্জন করতে হয়।গুরু উত্তরসাধক মাত্র।

আমাদের স্কুল কলেজের শিক্ষার পদ্ধতি ঠিক উলটো।সেখানে ছেলেদের বিদ্যে গেলানো হয়, তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর নাই পারুক।এর ফলে ছেলেরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণশীর্ণ হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে।একটা জানাশোনা উদাহরণের সাহায্যে ব্যাপারটা পরিষ্কার করা যাক। আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যাঁরা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্যরক্ষার ও বলবৃদ্ধির সর্বপ্রধান উপায় মনে করেন।দুগ্ধ অবশ্য অতিশয় উপাদেয় পদার্থ, কিন্তু তার উপকারিতা যে ভোক্তার জীর্ণ করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে এ জ্ঞান ও শ্রেণির মাতৃকুলের নেই।তাদের বিশ্বাস ও বস্তু পেটে গেলেই উপকার হবে। কাজেই শিশু যদি তা গিলতে আপত্তি করে তাহলে সে যে বেয়াড়া ছেলে,সে বিষয়ে আর বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে না।অতএব তখন তাকে ধরে বেঁধে জোর জবরদস্তি করে দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। শেষটায় সে যখন এই দুগ্ধপান ক্রিয়া হতে অব্যাহতি লাভ করার জন্য মাথা নাড়াতে,হাত-পা ছুড়তে শুরু করে, তখন স্নেহময়ী মাতা বলেন, আমার মাথা খাও, মরামুখ দেখ, এই ঢোক, আর এক ঢোক, আর এক ঢোক ইত্যাদি।মাতার উদ্দেশ্য যে খুব সাধু, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু এ বিষয়েও কোনো সন্দেহ নেই যে, উক্ত বলা কওয়ার ফলে মা শুধু ছেলের যকৃতের মাথা খান এবং ঢোকের পর ঢোকে তার মরামুখ দেখবার সম্ভাবনা বাড়িয়ে চলেন।আমাদের স্কুল কলেজের শিক্ষা পদ্ধতিটাও ঐ একই ধরনের।এর ফলে কত ছেলের সুস্থ সরল মন যে ইনফ্যান্টাইল লিভারে গতাসু হচ্ছে তা বলা কঠিন। কেননা দেহের মৃত্যুর রেজিস্টারি রাখা হয়, আত্মার হয় না।

আমরা কিন্তু এই আত্মার অপমৃত্যুতে ভীত হওয়া দূরে থাক, উৎফুল্ল হয়ে উঠি। আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে। পাশ করা ও শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়, এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই। শিক্ষা শাস্ত্রের একজন জগদ্বিখ্যাত ফরাসি শাস্ত্রী বলেছেন যে, এক সময়ে ফরাসি দেশে শিক্ষা পদ্ধতি এতই বেয়াড়া ছিল যে, সে যুগে Frnace Was Save by her idlers ; অর্থাৎ যারা পাশ করতে পারেনি বা চায়নি তারাই ফ্রান্সকে রক্ষা করেছে। এর কারণ, হয় তাদের মনের বল ছিল বলে কলেজের শিক্ষাকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল, নয় সে শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করে ছিল বলেই তাদের মনের বল বজায় ছিল। তাই এই স্কুল-পালানো ছেলেদের দল থেকে সে যুগের ফ্রান্সের যত কৃতকর্মা লোকের আবির্ভাব হয়েছিল।

সে যুগে ফ্রান্সে কী রকম শিক্ষা দেওয়া হতো তা আমার জানা নেই। তবুও আমি জোর করে বলতে পারি যে, এ যুগে আমাদের স্কুল কলেজে শিক্ষার যে রীতি চলছে, তার চাইতে সে শিক্ষাপদ্ধতি কিছুতেই নিকৃষ্ট ছিল না। সকলেই জানেন যে, বিদ্যালয়ে মাস্টার মহাশয়েরা নোট দেন এবং সেই নোট মুখস্থ করে তারা হয় পাশ। এর জুড়ি আর একটি ব্যাপারও আমাদের দেশে দেখা যায়। এদেশে একদল বাজিকর আছে, যারা বন্দুকের গুলি থেকে আরম্ভ করে উত্তরোত্তর কামানের গুলি পর্যন্ত গলাধঃকরণ করে। তারপর একে একে সবগুলো উগলে দেয়। এর ভেতর যে অসাধারণ কৌশল আছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই গেলা আর ওগলানো দর্শকের কাছে তামাশা হলেও বাজিকরের কাছে তা প্রাণান্তকর ব্যাপার। ও কারদানি করা তার পক্ষে যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি অপকারী। বলা বাহুল্য, সে বেচারাও লোহার গোলাগুলোর এক কণাও জীর্ণ করতে পারে না। আমাদের ছেলেরাও তেমনি নোট নামক গুরুদত্ত নানা আকারের ও নানা প্রকারের গোলাগুলো বিদ্যালয়ে গলাধঃকরণ করে পরীক্ষালয়ে তা উদ্গীরণ করে দেয়। এ জন্য সমাজ বাহবা দেয় দিক, কিন্তু মনে যেন না ভাবে যে, এ জাতির প্রাণশক্তি বাড়ছে। স্কুল কলেজের শিক্ষা যে অনেকাংশে ব্যর্থ হয়, অনেক স্থলে মারাত্মক। কেননা আমাদের স্কুল কলেজের ছেলেদের স্বশিক্ষিত হবার সে সুযোগ দেয় না, শুধু তাই নয়, স্বশিক্ষিত হবার শক্তি পর্যন্ত নষ্ট করে। আমাদের শিক্ষাযন্ত্রের মধ্যে যে যুবক নিষ্পেষিত হয়ে বেরিয়ে আসে, তার আপনার বলতে বেশি কিছু থাকে না, যদি না তার প্রাণ অত্যন্ত কড়া হয়। সৌভাগ্যের বিষয, এই ক্ষীণপ্রাণ জাতির মধ্যেও জনকতক এমন কঠিন প্রাণের লোক আছে, এহেন শিক্ষাপদ্ধতিও তাদের মনকে জখম করলেও একেবারে বধ করতে পারে না।

আমি লাইব্রেরিকে স্কুল কলেজের ওপরে স্থান দিই এই কারণে যে, এ স্থলে লোকে স্বেচ্ছায় স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হবার সুযোগ পায়; প্রতিটি লোক তার স্বীয় শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। স্কুল কলেজ বর্তমানে আমাদের যে অপকার করছে সে অপকারের প্রতিকারের জন্য শুধু নগরে নগরে নয়, গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠা করা কর্তব্য। আমি পূর্বে বলেছি যে, লাইব্রেরি হাসপাতালের চাইতে কম উপকারী নয়, তার কারণ আমাদের শিক্ষার বর্তমান অবস্থায় লাইব্রেরি হচ্ছে একরকম মনের হাসপাতাল। অতঃপর আপনারা জিজ্ঞাসা করতে পারেন যে, বই পড়ার পক্ষ নিয়ে এ ওকালতি করবার, বিশেষত প্রাচীন নজির দেখাবার কী প্রয়োজন ছিল? বই পড়া যে ভালো, তা কে না মানে? আমার উত্তর সকলে মুখে মানলেও কাজে মানে না। মুসলমান ধর্মে মানবজাতি দুই ভাগে বিভক্ত। যারা কেতাবি, আর এক যারা তা নয়। বাংলায় শিক্ষিত সমাজ যে পূর্বদলভুক্ত নয়, একথা নির্ভয়ে বলা যায় না; আমাদের শিক্ষিত সম্প্রদায় মোটের ওপর বাধ্য না হলে বই স্পর্শ করেন না। ছেলেরা যে নোট পড়ে এবং ছেলের বাপেরা যে নজির পড়েন, দুই-ই বাধ্য হয়ে, অর্থাৎ পেটের দায়ে। সেইজন্য সাহিত্যচর্চা দেশে একরকম নেই বললেই হয়; কেননা, সাহিত্য সাক্ষাৎভাবে উদরপূর্তির কাজে লাগে না। বাধ্য হয়ে বই পড়ায় আমরা এতটা অভ্যস্ত হয়েছি যে, কেউ স্বেচ্ছায় বই পড়লে আমরা তাকে নিষ্কর্মার দলেই ফেলে দিই; অথচ একথা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না, যে জিনিস স্বেচ্ছায় না করা যায়, তাতে মানুষের মনের সন্তোষ নেই।

একমাত্র উদরপূর্তিতে মানুষের সম্পূর্ণ মনস্তুষ্টি হয় না। একথা আমরা সকলেই জানি যে, উদরের দাবি রক্ষা না করলে মানুষের দেহ বাঁচে না; কিন্তু একথা আমরা সকলেই মানিনে যে, মনের দাবি রক্ষা না করলে মানুষের আত্মা বাঁচে না। দেহরক্ষা অবশ্য সকলেরই কর্তব্য কিন্তু আত্মরক্ষাও অকর্তব্য নয়। মানবের ইতিহাসের পাতায় পাতায় লেখা রয়েছে যে মানুষের প্রাণ মনের সম্পর্ক যত হারায় ততই তা দুর্বল হয়ে পড়ে। মনকে সজাগ ও সবল রাখতে না পারলে জাতির প্রাণ যথার্থ স্ফুর্তিলাভ করে না; তারপর যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব। একমাত্র আনন্দের স্পর্শেই মানুষের মনপ্রাণ সজীব, সতেজ ও সরাগ হয়ে ওঠে। সুতরাং সাহিত্যচর্চার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে, জাতির জীবনীশক্তির হ্রাস করা। অতএব, কোনো নীতির অনুসারেই তা কর্তব্য হতে পারে না। অর্থনীতিরও নয়, ধর্মনীতির নয়।

কাব্যামৃতে যে আমাদের অরুচি ধরেছে সে অবশ্য আমাদের দোষ নয়, আমাদের শিক্ষার দোষ। যার আনন্দ নেই সে নির্জীব একথা যেমন সত্য, যে নির্জীব তারও আনন্দ নেই, সে কথাও তেমনি সত্য। আমাদের শিক্ষাই আমাদের নির্জীব করেছে। জাতির আত্মরক্ষার জন্য এ শিক্ষার উলটো টান যে আমাদের টানতে হবে, এ বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ। এই বিশ্বাসের বলেই আমি স্বেচ্ছায় সাহিত্যচর্চার সপক্ষে এত বাক্য ব্যয় করলুম। সে বাক্যে আপনাদের মনোরঞ্জন করতে সক্ষম হয়েছি কিনা জানিনে। সম্ভবত হইনি। কেননা, আমাদের দুরবস্থার কথা যখন স্মরণ করি, তখন খালি কোমল সুরে আলাপ করা আর চলে না; মনের আক্ষেপ প্রকাশ করতে মাঝে মাঝেই কড়ি লাগাতে হয়।

সারাংশ

লেখক মনে করেন, বই পড়া মানুষের সবচেয়ে বড় শখ হলেও আমাদের সমাজে তা শখ হিসেবে চর্চিত হয় না। কারণ মানুষ শৌখিন নয়, অর্থকেন্দ্রিক—যা থেকে তাৎক্ষণিক লাভ পাওয়া যায় না, তার মূল্য আমরা দিই না। ফলে সাহিত্যচর্চা অবহেলিত। অথচ সাহিত্যই মানুষের মনকে জাগ্রত করে, চিন্তাশক্তি বাড়ায় এবং জাতিকে সত্যিকার অর্থে মানুষ করে তোলে।

বর্তমান পরীক্ষানির্ভর শিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা নোট মুখস্থ করে পাশ করে, কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করে না। এই মুখস্থনির্ভর শিক্ষা তাদের স্বশিক্ষার ক্ষমতা নষ্ট করে। সত্যিকারের শিক্ষক কেবল পথ দেখাতে পারেন—জ্ঞান অর্জন করতে হয় শিক্ষার্থীকেই। তাই লাইব্রেরির গুরুত্ব স্কুল-কলেজের থেকেও বেশি; কারণ সেখানে মানুষ স্বেচ্ছায়, নিজের রুচি ও কৌতূহল অনুযায়ী স্বশিক্ষা লাভ করে। লাইব্রেরি মানসিক রোগের হাসপাতালের মতো জাতির মনকে সুস্থ রাখে।

লেখকের মতে, শুধুমাত্র পেটের দায়ে নয়—মনের দাবি মেটাতেও সাহিত্যচর্চা জরুরি। আনন্দহীন মন দুর্বল ও নির্জীব হয়ে পড়ে। তাই জাতির জীবনীশক্তি ধরে রাখতে সাহিত্যচর্চা ও লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। আমাদের শিক্ষার ভুল দিক সংশোধন করে জাতিকে সৃজনশীল ও সচল করতে হলে স্বেচ্ছায় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতেই হবে।

প্রবন্ধের মূল থিমসমূহ

১) সাহিত্যচর্চার অপরিহার্যতা

  • সাহিত্য মানুষের পূর্ণ মন—চিন্তা, অনুভূতি, দর্শন, বিজ্ঞান—সব একত্রে প্রকাশ করে।
  • জাতির মনন গঠনে সাহিত্য সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

২) স্বশিক্ষার গুরুত্ব

  • সত্যিকার শিক্ষা নিজের প্রচেষ্টায় অর্জিত হয়; শিক্ষক কেবল পথ দেখান।
  • বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা স্বশিক্ষার শক্তি নষ্ট করে দিচ্ছে।

৩) বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা

  • নোট মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাশ করাকে শিক্ষা মনে করা ভুল।
  • এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মনজগতকে জড় ও দুর্বল করে তোলে।

৪) লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তা ও মূল্য

  • লাইব্রেরি স্বশিক্ষার কেন্দ্র—এখানে মানুষ নিজের রুচি অনুযায়ী পড়তে পারে।
  • লেখকের মতে, লাইব্রেরি হাসপাতালের মতো জরুরি, বরং স্কুল-কলেজের থেকেও বেশি।

৫) অর্থকেন্দ্রিক সমাজের সংকট

  • মানুষ শুধু তাৎক্ষণিক লাভ দেখে; সাহিত্যকে মূল্যহীন ভাবা হয় কারণ এর ‘বাজারদর’ নেই।
  • এই মনোভাব জাতিকে সৃজনশীলতা ও আনন্দ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

৬) জাতির মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রাণশক্তি

  • সাহিত্যচর্চায় যে আনন্দ পাওয়া যায়, তা ব্যক্তিমানস ও জাতির প্রাণশক্তিকে সজীব রাখে।
  • সাহিত্যবিমুখ জাতি নির্জীব ও নিরানন্দ হয়ে পড়ে।

৭) মনের দাবি বনাম দেহের দাবি

  • দেহের মতো মনও খাদ্য চায়—সেই খাদ্য হলো সাহিত্য।
  • শুধু উদরপূর্তি নয়, আত্মরক্ষাও মানুষের কর্তব্য।

সৃজনশীল প্রশ্ন

জাতীয় জীবনধারা গঙ্গা-যমুনার মতোই দুই ধারায় প্রবাহিত। এক ধারার নাম আত্মরক্ষা বা স্বার্থপ্রসার, আরেক ধারার নাম আত্মপ্রকাশ বা পরমার্থ বৃদ্ধি। একদিকে যুদ্ধবিগ্রহ, মামলা-ফ্যাসাদ প্রভৃতি কদর্য দিক; অপরদিকে সাহিত্য, শিল্প, ধর্ম প্রভৃতি কল্যাণপ্রদ দিক। একদিকে শুধু কাজের জন্য কাজ। অপরদিকে আনন্দের জন্য কাজ। একদিকে সংগ্রহ, আরেক দিকে সৃষ্টি। যে জাতি দ্বিতীয় দিকটির প্রতি উদাসীন থেকে শুধু প্রথম দিকটির সাধনা করে, সে জাতি কখনও উঁচু জীবনের অধিকারী হতে পারে না।

ক. ‘ভাঁড়েও ভবানী’ অর্থ কী?

খ. ‘অন্তর্নিহিত শক্তি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম দিকটি ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের যে দিকটিকে ইঙ্গিত করে তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “উদ্দীপকে পরমার্থ বৃদ্ধির প্রতি যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের লেখকের মতকে সমর্থন করে”-মন্তব্যটির বিচার করো।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর:

ক. ‘অভ্যুদয় ও ভবানী’ অর্থ কী?

অভ্যুদয় অর্থ উন্নতি, সমৃদ্ধি বা উত্থান।
ভবানী অর্থ পতন, ধ্বংস বা নীচে নেমে যাওয়া।

অর্থাৎ—একদিকে জাতির উন্নতির পথ ও অন্যদিকে পতনের পথ বোঝানো হয়েছে।

খ. ‘অবনতিকর শক্তি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

প্রবন্ধে “অবনতিকর শক্তি” বলতে বোঝানো হয়েছে—

  • সমাজে যে সকল শক্তি বা প্রবণতা জাতিকে পতনের দিকে টেনে নেয়,
  • যেমন স্বার্থপরতা, মামলাবাজি, লোভ, জ্ঞানহীনতা, অর্থলোলুপতা, নৈতিক অবক্ষয়,
  • যা জাতির কল্যাণে নয় বরং অকল্যাণে কাজ করে।

গ. ‘উদীপক’ কথাটি প্রথম কোন দুটি ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে দুটি দিক—অর্থাৎ উদ্দীপক শক্তি বনাম অবনতিকর শক্তি—ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:
“উদীপক” কথাটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে—যে শক্তি মানুষ বা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, সৎপথে পরিচালিত করে এবং উন্নতির দিকে এগিয়ে যায়।

‘বই পড়া’ প্রবন্ধে দুটি দিক—
১) উদীপক শক্তি:

  • যা জাতিকে উন্নতির পথে চালিত করে,
  • যেমন সাহিত্যচর্চা, জ্ঞানলাভ, সংস্কৃতি, নীতি, বিজ্ঞান—
  • এগুলো জাতির মনকে উন্নত ও উজ্জ্বল করে।
  1. অবনতিকর শক্তি:
    • মামলাবাজি, পেশাদার লোভ, অর্থলোলুপতা, শিক্ষার ভুল পদ্ধতি, কুসংস্কার—
    • যা সমাজকে পতনের দিকে নিয়ে যায়।

অর্থাৎ ‘উদীপক’ কথাটি উন্নতিমুখী দিক বোঝাতে ব্যবহার হয়েছে, বিপরীতে রয়েছে অবনতিকর প্রবণতাগুলি।

ঘ. “উদীপক পরামর্শ বৃদ্ধির প্রতি যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের লেখকের মতে সমর্থন করে”—ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:
‘বই পড়া’ প্রবন্ধে লেখক স্পষ্টভাবে বলেছেন—

  • সাহিত্যচর্চা মানুষের মনকে সজাগ, সচল ও সমৃদ্ধ করে,
  • জাতির বৌদ্ধিক, নৈতিক ও মানসিক উন্নতির জন্য জ্ঞানবৃদ্ধি অপরিহার্য,
  • স্বশিক্ষা ও বই-পড়া জাতিকে উন্নতির পথে নিয়ে যায়,
  • লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতির উত্থান সম্ভব।

অতএব, উদীপক পরামর্শ—যা মানুষকে জ্ঞানার্জন, উন্নতি ও উৎকর্ষের পথে উৎসাহিত করে—
বই পড়া’ প্রবন্ধের মূল বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কারণ প্রবন্ধের লেখকও মনে করেন—

  • জাতির উন্নতি = জ্ঞানবৃদ্ধি
  • আর জ্ঞানবৃদ্ধির প্রধান উপায় বই পড়া ও সাহিত্যচর্চা

সুতরাং উদীপক পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া একেবারেই যুক্তিসম্মত—এটি লেখকের ভাবনার সঙ্গে সরাসরি মিল রেখেছে।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

১) লেখকের মতে সাহিত্যচর্চা কেন শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ?

উত্তর: কারণ সাহিত্যে মানুষের সম্পূর্ণ মন—দর্শন, বিজ্ঞান, নীতি, অনুভূতি—সব একসঙ্গে প্রকাশিত হয়।

২) লেখকের মতে লাইব্রেরিকে কেন ‘মনের হাসপাতাল’ বলা হয়েছে?

উত্তর: কারণ লাইব্রেরি মানুষের মনকে সুস্থ, সজাগ ও সমৃদ্ধ করে; মানসিক পুনরুজ্জীবন ঘটায়।

৩) লেখকের মতে প্রকৃত শিক্ষা কীভাবে অর্জিত হয়?

উত্তর: স্বশিক্ষার মাধ্যমে—অর্থাৎ নিজের প্রচেষ্টা, কৌতূহল ও অনুসন্ধান দিয়ে।

৪) স্কুল-কলেজের মূল ত্রুটি কী?

উত্তর: নোট মুখস্থ করাকে শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু করা।

৫) লেখক কেন পাশ করা ও শিক্ষিত হওয়াকে এক মনে করেন না?

উত্তর: কারণ পাশ কেবল পরীক্ষামূলক সাফল্য; এতে মনন বা জ্ঞানগঠন ঘটে না।

৬) লেখক ‘বাজিকর’ উদাহরণটি কেন ব্যবহার করেছেন?

উত্তর: নোট মুখস্থ করা ও পরীক্ষায় উগরে দেওয়ার প্রক্রিয়ার হাস্যকর ও ক্ষতিকর দিক বোঝাতে।

৭) লেখকের মতে সাহিত্যচর্চার আনন্দ না পাওয়ার কারণ কী?

উত্তর: আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা মনকে নির্জীব করে দিয়েছে।

৮) লেখক লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের চেয়ে বেশি মূল্যবান মনে করেন কেন?

উত্তর: কারণ লাইব্রেরি স্বেচ্ছায় শেখার সুযোগ দেয়; বাধ্যতামূলক মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়।

৯) ‘ডেমোক্রেসি সাহিত্যের সার্থকতা বোঝে না’—এর কারণ কী?

উত্তর: সাহিত্য তাৎক্ষণিক আর্থিক লাভ দেয় না; তাই অর্থনির্ভর সমাজ তা মূল্যায়ন করে না।

১০) কেন লেখক মনে করেন আমরা শৌখিন জাতি নই?

উত্তর: কারণ আমরা কোনো শখ স্বেচ্ছায় করি না—সবকিছুই করি পেটের দায়ে।

১১) ‘জ্ঞানভাণ্ডার শূন্য হলে ধনের ভাঁড়েও ভবানী’—এর অর্থ কী?

উত্তর: যে জাতির জ্ঞান নেই, তার অর্থনৈতিক উন্নতিও স্থায়ী হয় না।

১২) সত্যিকারের গুরুর কাজ কী?

উত্তর: শিষ্যের অন্তর্নিহিত শক্তি জাগিয়ে তোলা ও তার মনকে উন্নত পথে পরিচালিত করা।

১৩) লেখকের মতে সাহিত্য কোথায় জন্ম নেয়?

উত্তর: মানুষের দর্শন, বিজ্ঞান, নীতি, অনুভূতি, আশা-নৈরাশ্য—সব মিলিয়ে সাহিত্য জন্ম নেয়।

১৪) লেখক কেন বলেন ‘ব্যাধিই সংক্রামক স্বাস্থ্য নয়’?

উত্তর: আমরা ইংরেজি সভ্যতার ভালো দিক না নিয়ে খারাপ দিকগুলো গ্রহণ করেছি—এ কথা বোঝাতে।

১৫) ‘স্বশিক্ষিত লোক মাত্রই সুশিক্ষিত’—এই বক্তব্যের অর্থ কী?

উত্তর: প্রকৃত জ্ঞান আসে নিজের আগ্রহ, অনুসন্ধান ও আত্মপ্রচেষ্টায়—অন্যের দেওয়া নয়।

 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১) লেখক কেন বলেন যে সাহিত্যচর্চা মানুষের আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখে?

উত্তর: কারণ সাহিত্য মনকে আনন্দ, চিন্তা, সৃজনশীলতা ও প্রাণশক্তি দেয়—যা মানুষের অন্তরজীবনকে সমৃদ্ধ করে।

২) লেখক কেন বই পড়াকে শখ হিসেবে পরামর্শ দিতে চান না?

উত্তর: কারণ আমাদের সমাজ বই পড়াকে শখ হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়; অনেকে তা সময়ের অপচয় মনে করে।

৩) লেখকের মতে অর্থলিপ্সা সাহিত্যচর্চাকে কীভাবে ক্ষতি করে?

উত্তর: অর্থকেন্দ্রিক মানুষ কেবল লাভজনক কাজকে মূল্য দেয়; সাহিত্য তাৎক্ষণিক লাভ না দেওয়ায় উপেক্ষিত হয়।

৪) লেখক কেন লাইব্রেরিকে হাসপাতালের সমান প্রয়োজনীয় বলেন?

উত্তর: কারণ শারীরিক সুস্থতার জন্য হাসপাতাল যেমন জরুরি, তেমনি মানসিক সুস্থতার জন্য লাইব্রেরি অপরিহার্য।

৫) নোট-মুখস্থ শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর কোন ক্ষতিটি সবচেয়ে বড় বলে লেখক মনে করেন?

উত্তর: তাদের জিজ্ঞাসা, চিন্তাশক্তি ও স্বশিক্ষার ক্ষমতা লোপ পায়।

৬) লেখকের মতে আনন্দহীন জাতি কেন নির্জীব হয়ে পড়ে?

উত্তর: কারণ আনন্দ মনকে জীবনীশক্তি দেয়; সাহিত্যচর্চা না থাকলে সেই মনশক্তি শুকিয়ে যায়।

৭) উদাহরণ হিসেবে ‘মায়ের জোর করে দুধ খাওয়ানোর’ ঘটনা ব্যবহার করে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর: জ্ঞান জোর করে চাপিয়ে দিলে তা আত্মস্থ হয় না; বরং মানসিক ক্ষতি হয়।

৮) লেখক কেন বলেন “লাইব্রেরির সার্থকতা স্কুল-কলেজের চেয়ে বেশি”?

উত্তর: কারণ স্কুল-কলেজ বাধ্য করে শেখায়; লাইব্রেরি স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক আগ্রহ তৈরি করে।

৯) ডেমোক্রেসির গুরুদের উদ্দেশ্য ও শিষ্যদের ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে লেখক কী ব্যঙ্গ করেছেন?

উত্তর: গুরুগণ সমতা চেয়েছিলেন কিন্তু শিষ্যরা ভুল বুঝে সবাই ‘বড় মানুষ’ হতে চায়—এ প্রবণতার কৃত্রিমতাকে ব্যঙ্গ করেছেন।

১০) লেখক মনে করেন কেন আমরা বই পড়াকে ‘বাধ্যতামূলক কাজ’ হিসেবে দেখি?

উত্তর: কারণ পরীক্ষার চাপ ও নোট নির্ভরতার কারণে মানুষ বই পড়াকে আনন্দ নয়, দায়িত্ব মনে করে।

১১) লেখক কেন লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা গ্রাম-শহর সর্বত্র জরুরি বলেছেন?

উত্তর: কারণ স্বশিক্ষার সুযোগ সবাইকে দিতে হলে কেবল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট নয়।

১২) প্রবন্ধে ‘মনগঙ্গার তোলা জল’ ও ‘পূর্ণ স্রোত’—এই রূপক দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: দর্শন-বিজ্ঞান মানুষের মননের আংশিক প্রকাশ; সাহিত্য তার পূর্ণ প্রবাহ।

১৩) লেখকের মতে কেন ‘শিক্ষাব্যবস্থা যুবকদের নিষ্পেষিত করে’?

উত্তর: কারণ এতে তাদের নিজস্ব সত্তা, মৌলিক চিন্তা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ নেই।

১৪) প্রবন্ধে বলা “দেহ বাঁচে না উদরপূর্তি ছাড়া, আর আত্মা বাঁচে না মনের পুষ্টি ছাড়া”—এর তাৎপর্য কী?

উত্তর: মানুষের শারীরিক ও মানসিক দুই প্রয়োজনই সমান গুরুত্বপূর্ণ; সাহিত্য মানসিক খাদ্য।

১৫) লেখক সাহিত্যচর্চাকে জাতীয় উন্নতির সঙ্গে কীভাবে যুক্ত করেন?

উত্তর: জ্ঞান, মনন ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি জাতির সামগ্রিক অগ্রগতির পূর্বশর্ত; সাহিত্য এই তিনটিকেই শক্তিশালী করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top